আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক স্তর ভেঙে ফেলেছে স্বর্ণের দাম। স্পট মার্কেটে গতকাল লেনদেনের এক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৯ ডলার ১০ সেন্টে। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গতকাল ধাতুটির দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬১ ডলার ৮০ সেন্টে। খবর রয়টার্স।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যবান ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধিতে কয়েকটি উপাদান ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার আবারো কমানোর প্রত্যাশা। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে এখন বেড়েই চলেছে স্বর্ণের চাহিদা। ৪ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক স্তর অতিক্রম করার মাধ্যমে মূল্যবান ধাতুটির দাম সামনের দিকে আরো দ্রুতগতিতে বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ ক্রয় অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ–সমর্থিত ইটিএফে বিনিয়োগপ্রবাহ ও ডলারের দুর্বল বিনিময় হারের কারণে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এরই মধ্যে ইউবিএস ও গোল্ডম্যান স্যাকস ধাতুটির দাম আগামী বছর ৫ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে তা ৫ হাজার ডলার ছাড়ালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
ধাতু ব্যবসায়ী তাই উং বলেন, ‘ধাতুর বাজারে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন মনস্তাত্ত্বিক স্তর ৫ হাজার ডলার নির্ধারণের কথা ভাবছেন। ফেড যদি সুদহার কমানো অব্যাহত রাখে, তাহলে সেটিও অদূরভবিষ্যতেই সম্ভব হবে।’
মার্কিন সরকারের শাটডাউন এক সপ্তাহ পার হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশ বিলম্বিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন বেসরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক এক্সচেঞ্জ সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, গত মাসে ফেডের ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানো এবং ডিসেম্বরে আরো এক দফা সমপরিমাণ সুদহার কমানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্স ও জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতাও এখন আপৎকালীন ও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে আরো জোরদার করছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের দামও বাড়ে। ৪ হাজার ডলারের স্তর অতিক্রম করায় তা আবারো প্রমাণ হলো। তবে বেশি দামে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেয়ায় স্বল্পমেয়াদে ধাতুর বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে।’
অন্য ধাতুর মধ্যে গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি পৌঁছেছে ৪৮ ডলার ৫৭ সেন্টে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬৪৪ ডলার ৪০ সেন্টে ও প্যালাডিয়ামের দাম বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৭৮ ডলার ৮৬ সেন্টে।